World

Real Madrid’s Success Theory : Focusing On Clutch moments

রিবিল্ডিং প্রসেসে একটা দল ভালোভাবে ডেকোরেটেড না হয়েও যে সর্বোচ্চ রেজাল্টটা করে দেখাতে পারে সেটার সম্ভবত সবচেয়ে অনুপম উদাহরণ দেখালো রিয়াল মাদ্রিদ । রাইভাল সমর্থক,প্লেয়ারদের থেকে বলা হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতার জন্য ডিজার্ভিং টিম ছিলো না, সেরা দল ছিলো না। চ্যাম্পিয়নস লীগের মতো টুর্নামেন্টের সাফল্য অর্জন করতে গেলে একটা টিমের গাথুনিটা অবশ্যই শক্তপোক্ত হতে হয়। সেই বিবেচনায় স্কোয়াড ডেপথ অনুযায়ী রিয়াল মাদ্রিদের গাথুনি এতো ভালো ছিল না, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে চ্যাম্পিয়নস লীগে ডিজার্ভিং তত্ত্বটা আসলেই ম্যাটার করে না। এই টুর্নামেন্ট নার্ভের একটা খেলা। নকআউট স্টেজে নার্ভ যতো ভালো হবে,ততো বেশি জেতার পথগুলো তৈরি হবে। ২টা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা বোঝা খুব সহজ হওয়ার কথা । পুরো সিজনে ভিয়ারিয়ালের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আলোচনায় থাকা গোলকিপার রুল্লি সেমিফাইনালের সেকেন্ড লেগে নার্ভ শক্ত রাখতে পারেনি, সে দ্বিতীয় লেগে এমন সব গোল কন্সিড করে ফেললো যেগুলো তার পুরো সিজনের পারফর্মেন্স অনুযায়ী তার দক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আবার ম্যানচেস্টার সিটির স্কিলফুল ডিফেন্ডার এবং এডারসন নিজেদের দলকে ৮৯ মিনিট থেকে এক্সট্রা সময় পর্যন্ত ২ গোলের লীডকে ধরে রাখতে পারেনি। যদি বলা হয় দিয়াজ,ক্যান্সেলো,এডারসনদের দক্ষতার ঘাটতি আছে,এটা বললে তাদের প্রতি অবিচার করা হবে। নার্ভ ধরে রাখতে না পারাটাই ব্যর্থতার মূল কারণ ছিলো।

রিয়াল মাদ্রিদ গত ৮ বছরে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লীগ টাইটেল জিতলো। একটা টুর্নামেন্টে এতো সাফল্য ধারাবাহিকভাবে আসলে সেই দলের প্লেয়ারদের মাথায় মনস্তাত্ত্বিকভাবে সাফল্যের রাস্তাটা আকা হয়ে যায়। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ প্লেয়াররা চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতার রাস্তাগুলো দেখে এসেছেন৷ এখানে অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক বিশাল।

অন্যদিকে ডাগআউটে চুইংগাম চিবানো ভদ্রলোক ৩ বার চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা কোচ। এখানে যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি আন্ডাররেটেড থেকে গেছেন, তিনি হলেন ডেভিড আনচেলোত্তি ।

নেপোটিজম নয়। যোগ্যতা দিয়েই কার্লো আনচেলোত্তির কোচিং প্যানেলে ঢুকেছেন ডেভিড। উয়েফার কোচদের প্রো লাইসেন্স টেস্টে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছিলেন ডেভিড, একইসাথে তিনি বর্তমান যুগের ডিমান্ড অনুযায়ী ডাটা এনালাইসিসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের শক্তি-দূর্বলতা বেশ পারদর্শী একজন মানুষ ।

এবার পুরো বিষয়টা মেলানো যাক । কার্লো আনচেলোত্তি পুরো সিজনজুড়ে নিজের কোনো ফিলোসোফি প্লেয়ারদের উপর চাপিয়ে দেননি । তিনি প্লেয়ারদের মাঝে দিয়েছেন অগাধ আত্নবিশ্বাস । এতো বছরে এতো লিজেন্ড সব প্লেয়ারদের ইগো সামলেছেন তিনি, রিয়াল মাদ্রিদ দলটাকে এক সুতোয় গাথাটা তার সর্বপ্রথম কাজ ছিলো। এক সিজন আগে রিয়াল মাদ্রিদের দূর্বলতা কোনটা ছিলো? এট্যাকে গোল না পাওয়া। করিম বেঞ্জেমা ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র মিলেই প্রায় ৭০ টার মতো গোল করেছেন। ১০ এর কাছাকাছি গোল করেছেন এসেন্সিও ও রদ্রিগোও ।

কয়টা গোল করেছে রিয়াল মাদ্রিদ সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা সবাই ইগনোর করে যাচ্ছে সেটা হলো কনভার্শন রেট। আনচেলোত্তির আন্ডারে এই সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ গোল কনভার্ট করার রেট অনেক বেশি বাড়িয়েছে । রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা এ সিজনে হাতে গোনা কয়েকটা মুহুর্তের কথা বলতে পারবেন যখন গোল মিস হওয়ার জন্য হতাশ হয়েছেন।

গোল কনভার্শন রেট এতো ভালো হওয়ার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ Clutch Performance এর উপর ফোকাস করে চ্যাম্পিয়নস লীগ পাড়ি দিয়েছে। ক্রুস, মদ্রিচ দুজনেরই বয়স হয়েছে, তারা আগের মতো মিডফিল্ড পুরো ৯০ মিনিট ধরে ডমিনেট করতে পারবেন না,প্রেস করতে পারবেন না,এটা তো জানাই ছিলো। কিন্তু দুজনের স্বভাবজাত স্কিলগুলো কাজে লাগিয়েছে কোচিং স্টাফ । সিজনের বিজনেস এন্ডে ফেদে ভালভার্দে ও কামাভিঙ্গার মতো ইঞ্জিনকে ব্যবহার করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিপক্ষের প্রেশার Absorb করেছে,সময় নিয়েছে, ফ্লুইড পাসিং এর মাধ্যমে দ্রুত কাউন্টার এট্যাক করেছে।

নার্ভের কথা বলছিলাম। নকআউট স্টেজে প্রত্যেকটা সেকেন্ড লেগ রিয়াল মাদ্রিদ বার্নাব্যুতে খেলেছে,এটা অবশ্যই একটা এডভান্টেজ। এডভান্টেজটা কাজে লেগেছে ম্যাচের দ্বিতীয় হাফ গুলোতে। পিএসজি, ম্যান সিটি, চেলসি প্রত্যেক দলই একই স্ক্রিপ্টে কাটা পড়েছে। ১/২ গোলে পিছিয়ে থাকার সময়ে সেকেন্ড হাফের ৬০-৭০ মিনিট থেকে হঠাৎই প্লেয়ার সাব করার পর ডি বক্সে প্লেয়ার ওভারলোড করেছে রিয়াল মাদ্রিদ । এই সময়গুলোতে যে চাপটা তৈরি করেছে প্রতিপক্ষের উপর,এই চাপটা নিতে পারেনি তারা। নার্ভের খেলায় পরাস্ত হয়েছে রাইভাল সমর্থকদের মত অনুযায়ী সিজনের বেস্ট দলগুলো।

তবে ফাইনাল ম্যাচের ছক কিন্তু ভিন্ন ছিলো । কর্তোয়া একের পর এক অতিমানবীয় সেভ দিচ্ছিলো বটে,কিন্তু লিভারপুল কখনও না কখনও গোল দিয়েই দিতো। সেই মুহুর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলো রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট । লিভারপুল প্রেসিং নির্ভর দল,ম্যাচের ৬০-৭০ মিনিট পর্যন্ত তারা যেভাবে প্রেস করবে, বাকি সময়ে প্রেস করাটা কঠিন,টায়ার্ড হওয়াটা স্বাভাবিক । বোধকরি এজন্যই কার্লো ফাইনালে সাব করেছেন দেরিতে। ভিনিসিয়াস গোল না দিলে,যদি রিয়াল মাদ্রিদ পিছিয়ে পড়তো, সঙ্গে সঙ্গে কামাভিঙ্গাকে নামিয়ে দিতেন তিনি। অথবা যদি ম্যাচ ৯০ মিনিটে ড্র থাকতো তাহলে তখন কামা,রদ্রিগোকে নামিয়ে দিতেন। লিভারপুলের মিডফিল্ডে কিছুটা ঘাটতি ছিলো। এই ঘাটতি টের পাওয়া যায় যখন থিয়াগোর জায়গায় কেইটা নামে,বারবার রিয়াল মাদ্রিদ গোল করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিলো।

প্রতিপক্ষকে কখন কিভাবে এট্যাক করতে হবে, চেপে ধরতে হবে, এগুলো নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ ভালো হোমওয়ার্ক করেছে । আনচেলোত্তি খেলার কৌশল নির্ণয়ে তার ছেলের যেমন সাহায্য নিয়েছেন তেমনি অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের মতকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। হ্যা,রিয়াল মাদ্রিদ ডমিনেটেড কোনো এট্যাকিং ফিলোসফির স্টাইল ফলো করেনি । কিন্তু দলগতভাবে এক হয়ে দারুন প্যাশন দেখিয়েছে পুরো স্কোয়াড । চ্যাম্পিয়নস লীগ মাথার খেলা,সুযোগ কাজে লাগানোর খেলা। এখানে খেলতে নয়,জিততে জানতে হয়৷ আপনার হাতে অনেক ভয়ংকর অস্ত্র থাকতে পারে,কিন্তু ভায়োলেন্স এড়িয়ে কোন অস্ত্র দিয়ে একবারেই কাজ হয়ে যায় এটা না জানলে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।

এতো কামব্যাক হয়তো অস্বাভাবিক লাগতে পারে, মনে হতেই পারে বেঞ্জেমা-কোর্তয়া-ভিনির ইন্ডিভিজুয়াল পারফর্মেন্স এর জন্য রিয়াল মাদ্রিদ সাফল্য পেয়েছে,প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের ভাগ্য খারাপ বলতে পারে। কিন্তু বিষয়গুলো যখন সূক্ষ্মভাবে মিলিয়ে দেখতে যাবেন,তখন অনেক ধারনাই পালটে যাবে। এ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ একটা ইউনিক দল ছিলো। আর এই স্বকিয়তাই রিয়াল মাদ্রিদকে অন্যান্য সেরা দল থেকে আলাদা করেছে,সাফল্য পেতে সহায়তা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button